জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) বাস্তবায়নের পথে আরও এক ঐতিহাসিক ও বড় পদক্ষেপ নিল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। এবার থেকে সিবিএসই বোর্ড থেকে দশম শ্রেণির পাশের শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট (Secondary School Examination Pass Certificate) পেতে গেলে পড়ুয়াদের তৃতীয় ভাষায় (Third Language) পাশ করা বাধ্যতামূলক করা হল।
তবে পড়ুয়াদের জন্য স্বস্তির বিষয় হল, এই তৃতীয় ভাষার জন্য কোনও বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না। স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন (Internal Assessment)-এ পাশ করলেই চলবে। কিন্তু কোনও পড়ুয়া যদি এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ফেল করে, তবে শত চেষ্টা করলেও দশম শ্রেণির ফাইনাল পাশের সার্টিফিকেট পাবে না। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে বোর্ড।
কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নিয়ম?
বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন এই নিয়ম এক সঙ্গে সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যারা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রথম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ওই পড়ুয়ারাই যখন ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে উঠবে, তখন তাদের এই নিয়মের অধীনে পরীক্ষা দিতে হবে।
বর্তমানে যারা দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বোর্ড পরীক্ষা দেবে, তাদের এই নতুন নিয়মের চক্করে পড়তে হবে না।
ফেল করলে কী হবে? নবম শ্রেণির জন্য কী নিয়ম?
নতুন নিয়মে পড়ুয়াদের কড়া শাসনের পাশাপাশি কিছুটা নমনীয়তাও দেখিয়েছে সিবিএসই। দশম শ্রেণিতে যদি কোনও পড়ুয়া তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ফেল করে, তবে বোর্ড পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগেই স্কুলকে তার পুনর্মূল্যায়ন বা রিঅ্যাসেসমেন্ট (Reassessment)-এর সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই দ্বিতীয় সুযোগেও পাশ করতে না পারলে সার্টিফিকেট আটকে যাবে।
নবম শ্রেণিতে যদি কেউ এই বিষয়ে ফেল করে, তবে তাকে দশম শ্রেণিতে উঠতে বাধা দেওয়া হবে না। তবে দশম শ্রেণিতে পড়ার মাঝেই তাকে নবম শ্রেণির বকেয়া পরীক্ষায় পাশ করে নিজেকে ক্লিয়ার করতে হবে।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিন ভাষার সূত্র (Three Language Formula)
সিবিএসই আগেই জানিয়েছিল যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই এই তিন ভাষার সূত্র চালু হবে।
১. প্রত্যেক পড়ুয়াকে তিনটি ভাষা পড়তে হবে।
২. এর মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে।
৩. ইংরেজি ছাড়াও যারা ফরাসি, জার্মান, জাপানি বা স্প্যানিশের মতো বিদেশি ভাষা পড়ছে, তারা তা চালিয়ে যেতে পারবে। তবে এর পাশাপাশি একটি ভারতীয় ভাষা তাঁদের অতিরিক্ত হিসেবে পড়তে হবে।
আদালতে চ্যালেঞ্জ ও সরকারের অনড় অবস্থান
সিবিএসই-র এই তিন ভাষার নির্দেশিকাকে ইতিমধ্যেই আদালতে রিট পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ২০২৯-৩০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্থগিত রাখার যে কথা আগে বোর্ড জানিয়েছিল, সেই অবস্থানেই যেন ফেরা হয়। তবে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই আদালতে হলফনামা দিয়ে স্পষ্ট করেছে, শিক্ষা সংবিধানের সমবর্তী তালিকাভুক্ত বিষয়। ফলে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় পক্ষেরই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সিবিএসই-র পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা আর তৃতীয় ভাষাকে ‘অতিরিক্ত বা হালকা বিষয়’ হিসেবে দেখার সুযোগ পাবেন না। মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা সফলভাবে শেষ করতে গেলে এখন থেকে এই বিষয়েও সমান জোর দিতে হবে।









