মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দির-এ রবিবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে দশটা থেকে মহাকালের চার প্রহর পুজো শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত বিধি-বিধান মেনে সম্পন্ন করা হয়।
সোমবার সকালে বিশেষ সেহরা দর্শনের পর দুপুর ১২টা নাগাদ আয়োজন করা হবে বছরে একবার অনুষ্ঠিত হওয়া মধ্যাহ্ন ভস্ম আরতি। এই বিরল আরতিতে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। রাত ১১টায় মন্দিরের পাট মঙ্গল করা হয়।
চার প্রহরে পুজোর সময় ১১ জন ব্রাহ্মণ একাদশ রুদ্রপাঠ ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ভগবান মহাকালের অভিষেক সম্পন্ন করেন। প্রথমে পাঁচ ধরনের ফলের রস, পরে দুধ, দই, ঘি, মধু,চিনি, গঙ্গাজল, গোলাপ জল, মহাদেবের প্ৰিয় পুজোর সামগ্রী মিশ্রিত দুধ দিয়ে পঞ্চামৃত অভিষেক করা হয়। এরপর নতুন বস্ত্র পরিয়ে সপ্তধান্য দিয়ে মুখারবিন্দ অলঙ্করণ করা হয়।
সপ্তধন্য নৈবেদ্য এবং ফুলের মুকুট দিয়ে বিশেষ সাজসজ্জা
ভগবানকে চাল, ছোলা, তিল, গম, যব সহ সাতটি শস্য নিবেদন করা হয়। এরপর,চাল, ছোলা, তিল, গম, যব সহ সাতটি শস্য নিবেদন করা হয়। এরপর, ফুলের মুকুটে বিশেষ সাজসজ্জা করে আরতি করা হয়।
মন্দিরের পুরোহিত আশিস শর্মা জানান, প্রায় তিন কুইন্টাল ফুল দিয়ে মহাকালের সেহরা সাজানো হয়েছে। চন্দ্রমুকুট, ছত্র, ত্রিপুণ্ড ও বিভিন্ন অলঙ্কারে ভগবানকে রাজাধিরাজ রূপে সাজানো হয়। সেহরা আরতির পর মিষ্টান্ন, ফল ও পঞ্চমেবা ভোগ নিবেদন করা হয়।
সোমবার সকাল ১১টায় সেহরা অপসারণের পর অলঙ্কার ও বস্ত্র সজ্জা সম্পন্ন করে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভস্ম আরতি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত ভোগ আরতি এবং শিবনবরাত্রির পরাণ সম্পন্ন হবে। ভোগ আরতির পরে নবনির্মিত শ্রী মহাকালেশ্বর নিঃশুল্ক অন্নক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ ভোজন ও দক্ষিণা প্রদান করা হবে।
দিনভিত্তিক পুজোর সূচি:
সন্ধ্যা পুজো : বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ৪৫
সন্ধ্যা আরতি: সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে ৭টা ১৫
শয়ন আরতি: রাত ১০টা ৩০
পাট মঙ্গল: রাত ১১টা
১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার বছরে একবার একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চমুখারবিন্দ দর্শন। এই দর্শনের মধ্য দিয়েই মহাশিবরাত্রি উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে ভগবান মহাকালকে তাঁর প্ৰিয় পুজোর সামগ্রী, চন্দন ও ত্রিপুণ্ড নৈবেদ্য অর্পণ করে রাজকীয় রূপে সাজানো হয়েছে। এই বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান ভক্তদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।









