১১ কার্তিক ১৪৩৩ বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩ বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন দিগন্ত, রামগড় স্থলবন্দর ও ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীসেতু-১ পরিদর্শনে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল

High News Digital Desk:

ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম এবং বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সার্বিক পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখল বিশ্বব্যাংকের পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার ঢাকার বিশ্বব্যাংক কার্যালয় থেকে আসা এই প্রতিনিধিদলটি নবনির্মিত রামগড় স্থলবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ফেনী নদীর ওপর নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীসেতু-১ পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, চারতলা বিশিষ্ট সাধারণ প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, পোর্ট ভবন, চারতলা ডরমিটরি, এক্সেল কন্ট্রোল কক্ষ এবং আধুনিক ভারত-বাংলাদেশ ট্রাক টার্মিনাল ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া দুই দেশের সীমান্ত যোগাযোগের অন্যতম সেতুবন্ধ মৈত্রীসেতু-১ পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রকল্পের নির্মিত অবকাঠামোর সার্বিক গুণমান ও পরিচালনা প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা।

বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ ববি, সিনিয়র সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট কীর্তি নিশান চাকমা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. সাহেদ মাহাবুব চৌধুরী, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট ড. রাফেজা আক্তার এবং ট্রান্সপোর্ট কনসালট্যান্ট সুনীল কুমার পোদ্দার। পরিদর্শন চলাকালীন রামগড় স্থলবন্দরের ইনচার্জ ও ট্রাফিক পরিদর্শক সাইফুদ্দিন সায়েম এবং ইমিগ্রেশন সুপারিনটেনডেন্ট আহমেদ মামুন উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন জানান, রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল এই সরেজমিন পরিদর্শনে এসেছেন। পরিকাঠামোগত মূল্যায়ন ও প্রকল্পের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সার্বিক মতবিনিময় করাও এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশ্লেষকদের মতে, রামগড় স্থলবন্দরের পূর্ণাঙ্গ সূচনা বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যাত্রী চলাচল এবং পণ্য পরিবহনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বের এই স্থলবন্দর এবং মৈত্রীসেতু-১ কেন্দ্রিক পরিকাঠামো পুরোদমে চালু করা গেলে দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত বাণিজ্যের বিপুল সম্প্রসারণ ঘটবে। একই সঙ্গে এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সংলগ্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার করবে। তাই বন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত চালু এবং নির্মিত আধুনিক অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Scroll to Top