আরজি কর হাসপাতাল দুর্নীতি মামলার তথাকথিত ‘হুইসেলব্লোয়ার’ তথা আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলি মঙ্গলবার সকালে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সূত্রের খবর, যে দুর্নীতি মামলা প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে আখতার আলির বড় ভূমিকা ছিল, সেই মামলার তদন্ত চলাকালীনই সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। সিবিআই-এর চার্জশিটেও তাঁর নাম রয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে আদালত আখতার আলিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। নির্দিষ্ট সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
এরপর গত শনিবার আখতার আলি আদালতে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আসায় এবং সিবিআই-এর আইনজীবী ও তাঁর নিজস্ব আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে সেদিন আত্মসমর্পণ সম্ভব হয়নি। তিনি আদালতকে জানিয়েছিলেন যে সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু সোমবার সিবিআই আধিকারিক ও আইনজীবীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি হাজিরা দেননি। অবশেষে মঙ্গলবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, আখতার আলিই প্রথম আরজি কর হাসপাতালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে টালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে লিখিতভাবে ১৫টি অনিয়মের কথা জানিয়েছিলেন। এরপরেই তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ৯ আগস্ট ২০২৪-এ আরজি কর হাসপাতালে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর দুর্নীতির অভিযোগগুলি আবারও চর্চায় আসে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। আখতার আলির অভিযোগের ভিত্তিতেই সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হয়েছিলেন, যদিও বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।









