পুজোয় ভিআইপি পাসের নামে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ইডির স্ক্যানারে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ঠিক এই আবহে দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানাল দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি। বুধবার এই কমিটির তরফে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে এছাড়া আরও একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির প্রধান উদ্যোক্তা রুদ্রনীল ঘোষ এদিন জানান, “ভিআইপি পাস বা কার্ডের নামে কোটি কোটি টাকা তুলছেন অনেকে শুনতে পাই। যা অত্যন্ত বেদনার। এই নিয়ে ভালোমন্দ কিছুই বলতে চাই না। যা বলার বাংলার মানুষ বলবেন। তবে এবার কোনও পাস বা কোনও টিকিটের বিনিময়ে এক টাকারও লেনদেনের বন্দোবস্ত নেই। আমরা প্রথম থেকেই ঘোষণা করছি পুজোর নামে একটা পয়সাও লেনদেন হবে না।” তাঁর মতে, ভিআইপি বলতে শুধু নেতামন্ত্রী নন। বরং দরিদ্র, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা থেকে অসুস্থ কেউ, সমাজকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, দমকল কর্মী সকলেই ভিআইপি। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে তাঁর অনুরোধ, “সকলকে সমানভাবে প্রতিমা দর্শনের সুবন্দোবস্ত করে দেওয়া হোক। কারণ, মায়ের কাছে ছোট-বড় কোনও ভেদাভেদ নেই।”
বদলের বাংলায় এবার পুজোকে প্রকৃত অর্থে বিশ্বজনীন করে তোলাই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। তিনি জানান, এতদিন কিছু হোমরাচোমরাদের পুজোকে পুজো বলে তকমা দেওয়া হত। কার কত বাজেট তা দেখে পুজো আটকে ছিল। বহু পুজো কলকাতায় হয়। রাজ্যেও হয়। তা সত্ত্বেও মাত্র কয়েকটি পুজোকেই গুরুত্ব দেওয়া হত। তবে এবার আর সেরকম বৈষম্য থাকবে না বলেই সাফ জানিয়েছেন রুদ্রনীল। এদিন উপস্থিত ছিলেন সমিতির অন্যতম উপদেষ্টা প্রীতম সরকার। পুজোর একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে। dpssinfo.com এই ওয়েবসাইট থেকে সমিতির পক্ষ থেকে পুজোর ওয়েবসাইটে সমস্ত পুজোর তথ্য থাকবে। সব পুজোকেই দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির তরফে জানানো হয়েছে। রুদ্রনীল বলেন, “প্রায় ৭০০-৮০০ ইতিমধ্যেই সমিতির সদস্য হয়ে গিয়েছে। আজকেই হাজারের কাছাকাছি হয়ে যাবে। আরও যারা আছেন তাদেরকে আমি বলব যুক্ত হোন। বিশ্বময় যাতে বার্তা ছড়াতে পারি।” এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সব পুজোর লাইভ স্ট্রিমিং দেখার বন্দোবস্ত করা হবে।





