তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সরাসরি আঘাতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির অন্তর্গত ইয়ানাম এলাকা। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ইয়ানামের নিকটবর্তী উপকূলে ল্যান্ডফলের সময় ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ধ্বংসাত্মক ঝোড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বহু বিশালাকার গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে বুধবার সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নেমে ইয়ানামের পুলিশ সুপার কে বরদরাজন জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি রুখতে আমরা গতকাল থেকেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছি। গতকাল রাতে আমরা অতি ভারী বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগের তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার মুখোমুখি হয়েছি। আবহাওয়ার সিস্টেমটি বর্তমানে দক্ষিণ দিকে সরে গিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং স্বস্তির বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের রাজস্ব দফতর ইয়ানাম জুড়ে মোট ১৯টি ত্রাণ ও আশ্রয় শিবির চিহ্নিত করে রেখেছিল এবং সাধারণ মানুষ সেখানে নিরাপদে রয়েছেন। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সবচেয়ে বেশি গাছ উপড়ে পড়েছে। আমরা এখন এনডিআরএফ এবং পুদুচেরি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সহায়তায় ভেঙে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সরিয়ে রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করছি।” প্রশাসনের তৎপরতা ও আগাম সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কারণে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও উপড়ে পড়া গাছ ও খুঁটি মেরামতের কাজ শেষ করে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।










