বহুল চর্চিত অঙ্কিতা ভান্ডারি হত্যা মামলায় বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী নয়াদিল্লি। দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে ধর্না-বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় অঙ্কিতা ভান্ডারির বাবা-মাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে অনড় থেকে কেন্দ্র সরকারকে ২৪ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা-মা।
পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অঙ্কিতার মা স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর (দুষ্যন্ত গৌতম) এই নিয়োগ প্রত্যাহার না করা হবে, ততক্ষণ আমরা আমাদের দাবিতে অবিচল থাকব। আমাদের যদি এখানে বসে আন্দোলন করতে না দেওয়া হয়, তবে আমরা নিজেদের বাড়িতে বসেই আমরণ অনশন শুরু করব।” একই সুর শোনা গেছে অঙ্কিতার বাবার গলাতেও। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিচ্ছি—দুষ্যন্ত কুমারকে সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। যদি তা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে গোটা দেশের মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদে শামিল হবেন এবং তার সম্পূর্ণ দায়ভার কেন্দ্র সরকারকেই নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের বনান্ত্রা রিসর্টে ১৯ বছর বয়সী রিসেপশনিস্ট অঙ্কিতা ভান্ডারিকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। রিসর্টের এক অজ্ঞাতপরিচয় ‘ভিআইপি’ অতিথিকে অনৈতিক ‘বিশেষ পরিষেবা’ দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই মামলায় রিসর্ট মালিক পুলকিত আর্য-সহ তিন অভিযুক্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও সেই কথিত ‘ভিআইপি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত থাকে। পরিবারের অভিযোগ, সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিটি ছিলেন বিজেপির তৎকালীন উত্তরাখণ্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দুষ্যন্ত গৌতম (যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন)। সম্প্রতি তাঁকে সিকিমের রাজ্যপাল মনোনীত করার পরেই নতুন করে বিতর্ক মাথাচাড়া দেয় এবং বিচারের দাবিতে দিল্লিতে এসে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন অঙ্কিতার বাবা-মা।










