হিন্দুত্ব, গেরুয়া এবং সনাতন ধর্মের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা এবং আরজি করের চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রসঙ্গও অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে সংঘটিত হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই তিনি অবিলম্বে পুলিশকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতা র করা হয়েছে। তবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার পর যে ‘হিন্দুত্ববাদী হামলা’ বলে মন্তব্য করা হয়েছিল, তার তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি বলেছেন যে হিন্দুত্ববাদীরা হামলা চালিয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে আপনি প্রকারান্তরে সমগ্র হিন্দু সমাজকে আক্রমণ করেছেন। এর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগেসের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিনের সম্মেলনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরি-এর মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুর চত্বরে বামপন্থী ছাত্রছাত্রী ও কিছু শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “মস্তিষ্কের নকশাল ও কমিউনিস্টদের শিকড়সহ উচ্ছেদ করব। প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে লড়াই করব। রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এবিভিপির আওয়াজ ও জোয়ার শোনা যাবে।”
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই উত্তাল পরিস্থিতির সময় ‘গেরুয়া আতঙ্ক’ বা ‘স্যাফ্রন টেরর’ শব্দের ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, গেরুয়া বস্ত্র, হিন্দুত্ব বা সনাতন ধর্মকে যারা অপমান করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মায়ের উপস্থিতির কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বর্তমানে পানিহাটি থেকে নির্বাচিত বিধায়ক ওই নির্যাতিতার মা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট ও তাঁকে পদে বহাল রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলেন।
তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত তিন পুলিশ আধিকারিক— বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, আরজি কর মামলাতেও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে তাঁরা সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আমরা করে দেখাব’ মন্ত্রকে ভরসা রেখে এই মামলায় প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই তিনি জোরালো আশ্বাস দেন।









