সম্ভাব্য চাহিদার কথা মাথায় রেখে, বিদ্যুতের সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ও কোম্পানিগুলিকে নিয়ে পরিস্থিতির সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ইতিমধ্যেই সেরে নিয়েছে রাজ্য। পুজোর দিনগুলিতে রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাকে এক ছাতার তলায় এনে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুজো আসতে হাতে মাত্র আর কয়েকটা দিন বাকি। রাজ্যের হিসেব বলছে, এই বছর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর সংখ্যা আগের বছরের চেয়েও অনেকটা বেড়েছে। আর পুজোর সংখ্যা বেড়েছে মানে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও। উৎসবের দিনগুলিতে প্রচুর অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন জমা পড়ে দফতরে। গত বছর যে সংখ্যাটা ছিল ৫৭ হাজারের কাছাকাছি, প্রশাসনিক অনুমান, এ বছর সেই সংখ্যাটাই প্রায় ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যে হারে পুজোর সংখ্যা বেড়েছে, আন্দাজ করা হচ্ছে, এই বছর বিশেষ সময়টুকুতেই রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা পৌঁছে যেতে পারে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াটে (উল্লেখ্য, গত বছরের দুর্গাপুজোয় ছিল ১০ হাজার মেগাওয়াটের কিছুটা কম)। এই সম্ভাব্য চাহিদার কথা মাথায় রেখে, বিদ্যুতের সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ও কোম্পানিগুলিকে নিয়ে পরিস্থিতির সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ইতিমধ্যেই সেরে নিয়েছে রাজ্য।
পূজোর দিনগুলিতে রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাকে এক ছাতার তলায় এনে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
কয়লার পর্যাপ্ত যোগান: কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (CIL)-এর অধীনস্থ সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে উৎসবের দিনগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়তি কয়লা মজুত রাখা হয়। প্রয়োজনে যাতে দ্রুত রাজ্যের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা পৌঁছে দেওয়া যায়, তার আশ্বাস মিলেছে।
রেলের বিশেষ নজরদারি: ইস্টার্ন রেলওয়ে (Eastern Railway) এবং সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে (South Eastern Railway)-কে অনুরোধ করা হয়েছে, কয়লা বহনকারী মালগাড়িগুলি যেন দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়ে রাজ্যের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছনো সুনিশ্চিত করে।
সংবহনে আগাম প্রস্তুতি: পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (PGCIL) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন পর্ষদ (WBSETCL) – এই দুই সংবহন সংস্থা নিরবচ্ছিন্ন সঞ্চালন লাইন বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বণ্টন সংস্থার স্পষ্ট নির্দেশ: WBSEDCL, CESC এবং IPCL-এর মতো সমস্ত বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের দিনগুলিতে প্যান্ডেল বা সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয়।
৩৫০০টি বিশেষ মেইনটেন্যান্স ভ্যান
পুজোর দিনগুলিতে রাজ্য জুড়ে দিবারাত্রি (২৪ x ৭) প্রায় ৩৫০০টি ‘মোবাইল মেইনটেন্যান্স ভ্যান’ (Mobile Maintenance Van) প্রস্তুত রাখা হবে। যাতে কোনও ত্রুটি দেখা দিলে দক্ষ কর্মী ও আধিকারিকেরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সমস্যা হলে ফোন কোথায়? জারি ৩ সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর
উৎসবের দিনগুলিতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের জরুরি সমস্যা বা অভিযোগ জানানোর জন্য বিদ্যুৎ দফতরের তরফে বেশ কয়েকটি ২৪x৭ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে:
WBSEDCL গ্রাহকদের জন্য: রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL)-এর বিদ্যুৎ ভবনে একটি বিশেষ ২৪x৭ কন্ট্রোলরুম খোলা থাকবে। যার নম্বরগুলি হল – ৮১০০৭১৩৫০৩ এবং ৮১০০৭১৩৫০৪। এই কন্ট্রোল রুমটির সরাসরি দায়িত্বে থাকবেন ডিরেক্টর (ডিস্ট্রিবিউশন), এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর (ডিস্ট্রিবিউশন) এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ডিস্ট্রিবিউশন – সাউথ)। এছাড়া গ্রাহকেরা টোল-ফ্রি নম্বর ১৯১২১-এ কল করেও অভিযোগ জানাতে পারবেন।
CESC গ্রাহকদের জন্য: সিইএসসি (CESC) এলাকাগুলির বিদ্যুৎ পরিষেবা সার্বিক নজরদারিতে রাখার জন্য ৯৮৩১০৭৯৬৬৬ এবং ৯৮৩১০৮৩৭০০ – এই দুটি নম্বর সচল থাকবে। সেই সঙ্গে CESC-র নিজস্ব টোল-ফ্রি নম্বর ১৯১২-ও সারাক্ষণ খোলা রাখা হচ্ছে।
IPCL গ্রাহকদের জন্য: আইপিসিএল (IPCL)-এর অধীনে থাকা অঞ্চলগুলিতে, বিশেষ করে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে পরিষেবা পেতে ২৪x৭ হেল্পডেস্ক নম্বর ১৮০০-১০২৩-৭৮৩ এবং ১৯১২৩ চালু থাকবে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই পুজো মণ্ডপগুলিতে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা জানিয়ে দিয়েছেন, যা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর জাঁকজমক ও উদযাপনের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুজো কমিটিগুলির কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তারা যেন পূর্ব ঘোষিত চাহিদার ভিত্তিতেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, যাতে বিদ্যুৎ সুরক্ষা সংক্রান্ত কোনও অপ্রীতিকর সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।










