১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬

ভোটেকোশী-ত্রিশূলীর বন্যায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ যোগাযোগহীন হওয়ার আশঙ্কা

High News Digital Desk:

নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যার তৃতীয় দিনেও ঠিক কতজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তার স্পষ্ট চিত্র উঠে আসেনি। তবে সরকারের প্রাথমিক প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৫,০০০ মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্যার আগে রসুয়ার গোসাইঙ্কুণ্ড থেকে নুয়াকোটের দেবীঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ মোবাইল ব্যবহারকারী সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু বন্যার পর তাঁদের সাথে আর যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। নেপালের প্রধান দুটি টেলিকম সংস্থা— ‘নেপাল টেলিকম’ এবং ‘এনসেল’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১,৯২৪ জন মানুষ যোগাযোগহীন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারী।

বন্যা ও ধসের পর প্রায় ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকের সাথেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে এই সংখ্যা নিয়েও এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্টতা নেই। নেপাল সরকার শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ বা যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রায় ২,০০০টি আবেদন পেয়েছে।

যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের মধ্যে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গোসাইঙ্কুণ্ডে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং উপদ্রুত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার কারণে নিখোঁজদের সম্পূর্ণ বিবরণ জোগাড় করতে সমস্যা হচ্ছে।

সরকার ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হলো যোগাযোগহীন ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া, উপদ্রুত অঞ্চলগুলিতে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করা এবং বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া।

Scroll to Top