ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ল অরুণাচল প্রদেশ। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে একদিকে যেমন একাধিক এলাকায় ভূমিধস নেমেছে, তেমনই অন্যদিকে হড়পা বান ও বন্যার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এই দুর্যোগে ইতিমধ্যেই ১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিপর্যস্ত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহের পরিকাঠামোও। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দিবাং ভ্যালিতে হড়পা বানের জেরে সেনা শিবিরের দুটি আশ্রয়স্থল ভেসে যাওয়ার পর এখনও পাঁচ জওয়ানের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের সন্ধানে জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর আপার সুবানসিরি জেলার কেওজারিং-বায়াচিং সড়কে আচমকাই বড়সড় ভূমিধস নামে। সেই সময় রাস্তায় থাকা বেশ কয়েকজন শ্রমিক ধসের নীচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করলেও চার শ্রমিককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সরকারি সূত্রে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি এবং রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় উদ্ধারকাজেও নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দিবাং উপত্যকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে হঠাৎ হড়পা বান নেমে আসায়। পাসু পানি এলাকায় থাকা সেনা শিবিরের দুটি আশ্রয়স্থল জলের স্রোতে ভেসে যায়। প্রথমে সাতজন সেনা জওয়ান নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে উদ্ধারকারী দল দু’জনকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হলেও এখনও পাঁচজন নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে সেনার পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্গম এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই পাশের সেনা ছাউনি থেকে জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালাচ্ছেন। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান পেতে একাধিক দলকে কাজে লাগানো হয়েছে ।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপির ৫৮ ব্যাটালিয়ন, জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্সের ৬২ আরসিসি, অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও যোগ দিয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় পৌঁছনোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ সেনা জওয়ানদের সন্ধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অরুণাচল (Arunachal Pradesh) প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, লাগাতার বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৩৫টি রাস্তা, ৪০টি সেতু এবং ৭৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৩৭৩টি জল সরবরাহ ব্যবস্থা, ৮২৩টি বিদ্যুতের খুঁটি এবং ১২২টি সরকারি ভবনও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে বহু এলাকায় যোগাযোগ ও পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জনজীবন ফেরানোই এখন প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি নিখোঁজ পাঁচ সেনা জওয়ানের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান কখন সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।











