রেল নিজের জমি দখলমুক্ত করতে তৎপর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এরই মধ্যে রেলের জমি দখল সংক্রান্ত বিষয়ে উঠে এল দেশের সার্বিক চিত্র। গত পাঁচ বছরে দেশে কী হারে রেলের জমি দখল হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান উঠে এল তথ্যের অধিকার আইনে করা আবেদনের জবাবে। ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত দেশে রেলের এক হাজার হেক্টরেরও (এক হেক্টর প্রায় আড়াই একরের সমান) বেশি জমি জবরদখল করে রাখা ছিল।
তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই অ্যাক্ট)-এর আওতায় সম্প্রতি রেল বোর্ডের কাছে একটি আবেদন জমা পড়েছিল। ‘ইন্ডিয়া টুডে’র ওই আবেদনে, রেলের জমি দখল সংক্রান্ত গত ২৫ বছরের সার্বিক চিত্র জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে রেল বোর্ডের জবাবে গত পাঁচ বছরের একটি পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। আরটিআই অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রেলের ১০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি দখল হয়ে রয়েছে। অন্য দিকে, সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে রেলের প্রায় ৯৮.০২ হেক্টর জমি বেআইনি দখলদারি থেকে মুক্ত করা গিয়েছে।
পাঁচ বছরে অন্যের কব্জায় চলে যাওয়া জমির যে পরিসংখ্যান আরটিআই-এ উঠে এসেছে, তা থেকেই বোঝা যায় জমি দখলমুক্ত করা রেলের কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের বিষয়। পাঁচ বছরের ব্যবধানে রেলের জমি দখল প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২০-২১ সালে রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি অন্যের কব্জায় ছিল। পরের বছরে, ২০২১-২২ সালে তা কিছুটা কমে হয় ৭৮২.৮১ হেক্টর। পরের বছরগুলিতে আবার তা বৃদ্ধি পায়। ২০২২-২৩ সালে রেলের ৮০০ হেক্টরেরও বেশি জমি দখল হয়ে ছিল। পরের বছরে তা এক লাফে বেড়ে হাজার হেক্টর ছাপিয়ে যায়। ২০২৩-২৪ সালে ১০৭৮.৫৫ হেক্টর জমি বেআইনি ভাবে দখল করা ছিল। ওই এক বছরের মধ্যে প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি দখল হয়ে যায়। পরের বছর, ২০২৪-২৫ সালে দখল হওয়া জমির পরিমাণ সামান্য কমে দাঁড়ায় ১০৬৮.৫৪ হেক্টরে।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, গত বছরের ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর জমি ছিল রেলের হাতে। তার মধ্যে ০.২১ শতাংশ (যা প্রায় ১০৬৮ হেক্টর) জমি অন্যেরা দখল করে রেখেছে। আপাত ভাবে এই পরিসংখ্যান সামান্য মনে হতে পারে। তবে এই পরিমাণ জমিতে গুজরাতের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (দর্শকাসনের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যা ২৫.৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে অবস্থিত) প্রায় ৪২টি ধরে যেতে পারে।
তবে বেহাত হয়ে যাওয়া এই জমি দখলমুক্ত করার কাজ খুব বেশি গতি পায়নি। পাঁচ বছরে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর রেলের জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।









