চাকরির অপেক্ষায় থাকা যুবক-যুবতী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্বনির্ভর গোষ্ঠী কিংবা স্থানীয় কারিগরদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এল পূর্ব রেল। ছোট ব্যবসা শুরু করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ইচ্ছুকদের জন্য চালু হয়েছে ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’ প্রকল্পের নতুন আবেদন প্রক্রিয়া। এই প্রকল্পের আওতায় শিয়ালদহ ডিভিশনের ৮৪টি রেলস্টেশনে অস্থায়ী স্টল বসিয়ে নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন নির্বাচিত আবেদনকারীরা।
পূর্ব রেলের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় শিল্প, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পণ্য এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে বড় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার মানুষ যাতে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন এবং আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা (MSME), স্থানীয় শিল্পী, কারিগর, হস্তশিল্পী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির উদ্যোক্তারা। নির্বাচিত হলে তাঁরা শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন ব্যস্ত রেলস্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্টল পরিচালনার সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত থাকায় বিক্রির ক্ষেত্রও অনেক বড় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্টল বরাদ্দের জন্য নির্দিষ্ট ফিও ধার্য করেছে পূর্ব রেল। ৩০ দিনের জন্য স্টল নিতে হলে জমা দিতে হবে ২,০০০ টাকা, আর ৯০ দিনের জন্য স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,০০০ টাকা। তুলনামূলকভাবে কম খরচে বড় পরিসরে ব্যবসার সুযোগ পাওয়ায় এই প্রকল্প ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জুলাই, ২০২৬। ওই দিন দুপুর ৩টার মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি-সহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনকারীরা শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজারের (DCM) অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট স্টেশন ম্যানেজারের অফিসে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, স্টল তৈরির প্রাথমিক অবকাঠামো রেল কর্তৃপক্ষই তৈরি করে দেবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধাও দেওয়া হবে। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’ প্রকল্প শুধু ব্যবসার সুযোগই নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন জেলার বিশেষ হস্তশিল্প, খাদ্যপণ্য, হ্যান্ডলুম, বাঁশ ও কাঠের তৈরি সামগ্রী, মাটির শিল্পকর্ম বা অন্যান্য স্থানীয় পণ্য সরাসরি রেলযাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
বর্তমানে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রেল। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন অথবা কম পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাঁদের কাছে এটি হতে পারে আয়ের একটি বাস্তবসম্মত পথ।
তাই আপনি যদি নিজের তৈরি পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে এই সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে শিয়ালদহ ডিভিশনের ৮৪টি স্টেশনের যে কোনও একটিতে স্টল পরিচালনার সুযোগ পেতে পারেন। কম খরচে, বড় বাজারে পৌঁছনোর এই উদ্যোগ অনেকের জীবন ও জীবিকায় নতুন দিশা এনে দিতে পারে।










