বারুইপুরের যে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার অদূরেই রয়েছে একটি ঝুপড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই ঝুপড়িতেই। সেখানেই তার উপর শারীরিক নির্যাতন চলে বলে অভিযোগ। ওই ঝুপড়িতে নিয়মিত মদ-গাঁজার আসর বসত বলেও অভিযোগ উঠে আসছে। নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছেন প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার নামে দুই অভিযুক্তও। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যান মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস। অপর দুই অভিযুক্ত আনন্দ এবং দিবাকর আগে থেকেই সেখানে ছিলেন। অভিযোগ, তিন জনই সেখানে বসেই মাদক সেবন করেন। তার পরে নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সোমবারই হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাতে দেখা গিয়েছে, নাবালিকাকে যখন পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, তখনও সে বেঁচে ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের পর পা দিয়ে নাবালিকার গলায় চাপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিছু সময় ওই ঝুপড়িতেই ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
তার পরে বেশি রাতের দিকে নির্যাতিতার দেহ ঝুপড়ি থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তেরা। সূত্রের খবর, প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় দেহটি ভরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যায়। তাই অকুস্থলের কাছেই ওই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের ধারণা, নির্যাতন এবং আঘাতের জেরে নাবালিকা অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থাতেই তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। আঘাত এবং জলে ডুবে যাওয়ার ফলেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, কিশোরের দেহ ঝুপড়ি থেকে সরিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর তিন অভিযুক্তই আলাদা আলাদা পথে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালান।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনই বিশদে কোনও মন্তব্য করতে চাইছে না পুলিশ। আপাতত ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের তদন্তে ধৃত প্রভাস এবং দিবাকরকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মূল অভিযুক্ত আনন্দকে মঙ্গলবার হাজির করানো হবে আদালতে।
বারুইপুর নাবালিকা হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩ – হেডার








