রাজ্যের স্কুল কম্পিউটার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণের দাবিতে সরব হল অল ত্রিপুরা স্কুল কম্পিউটার শিক্ষক সংঘ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার রাজধানী আগরতলায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে সংগঠনের পাশে দাঁড়ায় ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস) এবং ত্রিপুরা ঠেকা মজদুর সংঘ। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে কম্পিউটার শিক্ষকদের দাবি পূরণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে দাবি না মানলে আগামী দিনে রাজ্যব্যাপী বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কম্পিউটার শিক্ষকদের মূল দাবি ছিল অবিলম্বে ৩৬৫ জন স্কুল কম্পিউটার শিক্ষককে নিয়মিত করা এবং বাকি শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দূর করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় মজদুর সংঘের ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহামন্ত্রী তপন কুমার দে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী অসমেও ডবল ইঞ্জিনের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সেখানে পাঁচ বছর চাকরি করার পর স্কুল কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাহলে ত্রিপুরা সরকার কেন একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তপন কুমার দে আরও বলেন, রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ডিজিটাল শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে ২০২১ সালে স্কুলগুলোতে কম্পিউটার শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন পরেও কম্পিউটার বিষয়কে ইলেকটিভ সাবজেক্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বহু কম্পিউটার শিক্ষক এখনও স্থায়ী নিয়োগ বা পুনর্বহালের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অবিলম্বে ৩৬৫ জন স্কুল কম্পিউটার শিক্ষকের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিদাওয়াও পূরণ করতে হবে। অন্যথায় ভারতীয় মজদুর সংঘ, অল ত্রিপুরা স্কুল কম্পিউটার শিক্ষক সংঘ এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্কুল কম্পিউটার শিক্ষকদের পাশাপাশি ভারতীয় মজদুর সংঘ ও ত্রিপুরা ঠেকা মজদুর সংঘের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না পাওয়ায় তাঁরা এবার আরও বৃহত্তর কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বিষয়টি আগামী দিনে রাজ্যের শ্রমিক ও শিক্ষা মহলে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।









