মায়ানমারে গত ২৪ ঘণ্টায় দুবার ভূ-তাত্ত্বিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোরে আবারও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৩.৯। এর ঠিক একদিন আগে, শুক্রবার রিখটার স্কেলে ৪.৯ তীব্রতার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এই তথ্য জানিয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, আজকের ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮৫ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ৯৬ কিলোমিটার। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে ৪.৫ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ওই একই অঞ্চলে ৫.৩ তীব্রতার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত গভীর ভূমিকম্পের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক হয়। কারণ অগভীর ভূমিকম্প থেকে নির্গত তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে কম দূরত্ব অতিক্রম করে, যার ফলে পৃথিবী বেশি জোরে কাঁপে এবং বাড়িঘর ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়।
ভৌগোলিক দিক থেকে মায়ানমার মাঝারি ও উচ্চ তীব্রতার ভূমিকম্প এবং সুনামির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশটি মূলত চারটি টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান, সুন্ডা এবং বার্মা প্লেট) মাঝে অবস্থিত। এছাড়া মায়ানমারের ওপর দিয়ে ১,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ‘ট্রান্সফর্ম ফল্ট’ চলে গেছে, যা উত্তরের সাগাইং ফল্টের সঙ্গে যুক্ত। এই সাগাইং ফল্ট মূলত সাগাইং, মান্দালয়, বাগো এবং ইয়াঙ্গুনের মতো শহরগুলোর জন্য বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ মার্চ মায়ানমারে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩,৬৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। তৎকালীন সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জ মিন তুন জানিয়েছিলেন যে, সেই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৭।










