কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে গাফিলতির অভিযোগ তুলে আগামী ১২ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টার রেলপথ ও জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলনের ডাক দিল এনএলএফটি এবং এটিটিএফ-র আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা। সোমবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে তাঁরা অস্ত্র ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হলেও বাস্তবে কোনও প্রকল্প কার্যকর হয়নি এবং বরাদ্দকৃত অর্থের একটি টাকাও তাঁদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দাবি, পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় অধিকাংশ পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বহু পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। তাঁদের অভিযোগ, এই দুরবস্থার কারণে ইতিমধ্যে আটজন আত্মসমর্পণকারীর মৃত্যু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকার স্বার্থে আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান সংগঠনের নেতারা। তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৭২ ঘণ্টাব্যাপী রেলপথ ও জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে খোয়াই ও তেলিয়ামুড়া এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও জানান, আন্দোলন শুরুর আগে যদি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ বা লিখিত আশ্বাস না আসে, তাহলে এই আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তাঁরা বিবেচনা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সিপাহিজলা জেলার জম্পুইজলাস্থিত টিএসআর-এর সপ্তম ব্যাটেলিয়নের সদর দফতরে রাজ্যের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আত্মসমর্পণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর বিভিন্ন গোষ্ঠীর মোট ৫৮৪ জন সদস্য অস্ত্র ত্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরে আসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক, মুখ্যসচিব, সিপাহিজলা জেলার জেলাশাসকসহ একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক।
আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের এই আন্দোলনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।









