হুগলি জেলার কোন্নগরের ১১ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় দাবা খেলোয়াড় মনোষ্কাম মিত্র তাঁর উজ্জ্বল ও অসাধারণ প্রতিভা দিয়ে জেলাকে আরও একবার গর্বিত করেছেন। ২য় জলপাইগুড়ি আন্তর্জাতিক বিশ্ব দাবা ফেডারেশন স্বীকৃত ওপেন দাবা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে তিনি রানার-আপ খেতাব অর্জন করেছেন। পুরো প্রতিযোগিতা জুড়ে অপরাজিত থেকে মনোষ্কাম মোট ১০ রাউন্ডের মধ্যে ৮ পয়েন্ট অর্জন করেন। খেলা চলাকালীন তিনি চণ্ডীগড়ের আন্তর্জাতিক মাস্টার হিমালয় গুসাই এবং পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক মাস্টার নীলাশ সাহার মতো দিকপাল খেলোয়াড়দের সঙ্গে ম্যাচ ড্র করার অভাবনীয় কৃতিত্ব দেখান। এই অসামান্য নৈপুণ্যের জন্য তাঁকে রানার-আপ ট্রফির পাশাপাশি নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
ভবিষ্যতে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মনোষ্কাম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এখনও অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে। প্রথম ধাপটি কঠিন হলেও কঠোর পরিশ্রমে তা অর্জন করা সম্ভব। এই মুহূর্তে আমার প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত ২৩০০ ফিদে রেটিং স্পর্শ করা।”
বুধবার ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর সঙ্গে এক বিশেষ কথোপকথনে মনোষ্কামের মা-বাবা তাঁদের সন্তানের এই অসাধারণ আন্তর্জাতিক সাফল্যের ঝুলিতে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এত কম বয়সে আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টে রানার-আপ হওয়া পরিবারের পাশাপাশি সমগ্র জেলার জন্যই এক বিরাট গর্বের বিষয়। ছেলের অক্লান্ত কঠোর পরিশ্রম এবং ক্রমাগত পারফরম্যান্সের উন্নতি দেখে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী যে, আগামী দিনে মনোষ্কাম বিশ্ব দাবা মঞ্চে ভারতের নাম আরও উজ্জ্বল করতে পারবে।
তবে এই আনন্দের মাঝেও নিজেদের গভীর দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন মনোষ্কামের পরিবার। তাঁরা জানান, পেশাদার দাবায় টিকে থাকতে হলে নিয়মিত উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, দেশ-বিদেশের নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে এই বিরাট খরচ একা টানা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সেই কারণে পরিবারটি চায় যে, সরকার, ক্রীড়া দপ্তর কিংবা কোনো সামাজিক সংস্থা (এনজিও) যদি এগিয়ে এসে মনোষ্কামকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য প্রদান করে, তবে অর্থের অভাব আর তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
মনোষ্কামের পরিবারের সদস্যরা ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার, সামাজিক সংগঠন বা অন্যান্য ক্রীড়ানুরাগী সংস্থা যদি এগিয়ে এসে এই প্রতিভাকে সঠিক সময়ে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা করে, তবে তা মনোষ্কামকে তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেকটাই সাহায্য করবে। তাঁরা দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, তাঁদের ছেলের প্রতিভা ও পরিশ্রমে কোনো খামতি নেই, এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সহযোগিতা।









