হিমাচল প্রদেশে বর্ষা সক্রিয় হতেই কিন্নর জেলার চোলিংয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বৃষ্টির পর মীরু নালায় আসা হড়পা বান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। বন্যা ও কাদা-আবর্জনা কারণে ৫ নম্বর জাতীয় সড়ক (হিন্দুস্তান-তিব্বত)সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তীব্র বেগে ধেয়ে আসা কাদা-আবর্জনার নিচে বেশ কয়েকটি যানবাহন চাপা পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর নেই। প্রশাসন ঘটনাস্থলে যন্ত্র পাঠিয়ে সড়ক সচল করার কাজ শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রদেশের একাধিক অংশে রাতভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে এবং শুক্রবারও আবহাওয়া খারাপ রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ৬ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করেছে।
কিন্নরের জেলাশাসক ড. অমিত কুমার শর্মা জানিয়েছেন, চোলিংয়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর ৫ নম্বর জাতীয় সড়কে বিপুল পরিমাণ কাদা-আবর্জনা এসে জমা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে। সড়ক দ্রুত খোলার জন্য যন্ত্র লাগানো হয়েছে এবং রাস্তা সচল করার কাজ চলছে। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর ক্রমাগত নজর রাখছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রা না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে ধস এবং হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে, কিন্নরের রিব্বা এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির পর রিব্বা খাড়িতে হড়পা বান এসেছে। এর জেরে রিব্বা থেকে কন্ডেকে যুক্তকারী সংযোগকারী সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও ব্যক্তির আহত হওয়া বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় স্তরে প্রশাসন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং রাস্তা খোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে নদী-নালাগুলির জলস্তর বেড়েছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে নদী-নালা এবং ধসপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখেই যাত্রা করার আবেদন জানিয়েছে।
প্রদেশে বর্ষার শুরু থেকেই বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনা ক্রমাগত সামনে আসছে। স্বাভাবিক সময়ের থেকে পাঁচ দিন দেরিতে, ৩০ জুন বর্ষা পৌঁছানোর পর গত তিন দিনে আলাদা আলাদা দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার লাহৌল-স্পিতির ময়াড় উপত্যকায় ধোন্দল নালার কাছে পাহাড় থেকে পাথর পড়ার জেরে এইচআরটিসি-র কন্ডাক্টর জ্ঞান সিংয়ের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্য জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, লাগাতার বৃষ্টির কারণে সড়ক, বিদ্যুৎ এবং পানীয় জল পরিষেবাও প্রভাবিত হয়েছে। বেশ কিছু কাঁচা বাড়ি এবং গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।










