নবান্নে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটাই প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। আর সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এবার আর স্কুল পড়ুয়াদের দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড করানো হবে না। পরিবর্তে কলেজ পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে প্যারেড আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের সময়সীমাও এক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্নে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি বলেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা চাইলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে আসতে পারে, কিন্তু তাদের প্যারেড বা দীর্ঘক্ষণ মাঠে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করানোর প্রয়োজন নেই। বরং কলেজ পড়ুয়াদের মাধ্যমে প্যারেড পরিচালনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি। তিনি জানান, আগস্ট মাসে আবহাওয়া অত্যন্ত অনিশ্চিত থাকে। কখনও প্রবল বৃষ্টি, কখনও আবার তীব্র আর্দ্রতা ও গরমের কারণে ছোটদের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা বা বৃষ্টিতে ভিজে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিশুদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর রেড রোডে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে প্যারেড ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বহু স্কুল পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। অনেককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। শুধু অনুষ্ঠান নয়, তার আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্যারেডের মহড়াতেও গরম ও আর্দ্রতার কারণে একাধিক ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
রাজ্য সরকারের একাংশের মতে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও গাম্ভীর্য বজায় রেখে উদযাপন করাই মূল লক্ষ্য। সেই কারণে কলেজ স্তরের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারা শারীরিকভাবে বেশি সক্ষম হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের প্যারেড বা মহড়া সামলাতে পারবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবারে কেন্দ্রের উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজ্যেও ৯ দিনব্যাপী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ অভিযান। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা, দেশপ্রেমমূলক কর্মসূচির আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচিরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে রাজ্য সরকার। স্কুল পড়ুয়াদের প্যারেড থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলেজ পড়ুয়াদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন নজর ১৫ আগস্টের মূল অনুষ্ঠানের দিকে, যেখানে নতুন সরকারের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।









