২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি কর্মীদের বদলিতে বড় পরিবর্তন!, পুজোর মুখে নির্দেশিকা নবান্নের ll

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলি নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। সচিবালয়ে কর্মরত কাউকে ডিরেক্টরেট বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বদলির প্রস্তাব কার্যকর করার আগে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় প্রশাসনিক নিয়ম আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।

High News Digital Desk:

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে নিয়ম বেঁধে দিল নবান্ন। সচিবালয়ে কর্মরত কাউকে সরাসরি ডিরেক্টরেট কিংবা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এই ধরনের বদলির প্রস্তাব কার্যকর করার আগে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে। সম্প্রতি জারি হওয়া নির্দেশিকায় এই শর্তের কথা জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলি নিয়ে নবান্ন

সচিবালয়ের কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি সাধারণ ক্যাডার ব্যবস্থা রয়েছে। এলডিএ বা নিম্নবর্গের সহকারী পদ থেকে শুরু করে উচ্চতর স্তরের কর্মীরাও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়েন। সাধারণ নিয়মে তাঁদের এক সচিবালয় দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়। কিন্তু অতীতে এই পরিচিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কর্মীদের অন্য সরকারি কার্যালয়ে পাঠানোর নজির তৈরি হয়েছিল।

সেই সময় সচিবালয়ের কর্মীদের একাংশকে ডিটেলমেন্টের মাধ্যমে জেলা ও ব্লক স্তরের অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কর্মস্থল বদলালেও তাঁদের বেতনের দায়িত্ব অবশ্য সচিবালয়ের হাতেই থাকত। এই ব্যবস্থা নিয়ে সেই সময় থেকেই আপত্তি জানিয়ে এসেছে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কিছু কর্মীকে দূরের অফিসে পাঠানো হয়েছিল। বিরোধী কর্মী সংগঠনের নেতা ও সমর্থকদের পাশাপাশি শাসক দলের ঘনিষ্ঠ সংগঠনের কিছু নেতাকেও এমন বদলির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

সংগঠনগুলির একাংশের দাবি ছিল, নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক প্রয়োজনের বদলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলি কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। বদলির এমন ঘটনাগুলির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল কলকাতার সচিবালয় থেকে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার ব্লক অফিসে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি। পরবর্তী সময়ে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ওই কর্মীদের অনেকেই ফের সচিবালয়ে ফিরে আসেন।

এবার নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য প্রশাসনিক কাঠামোয় পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদনের শর্ত স্পষ্ট করে দেওয়া হল। সচিবালয়ের কর্মীদের অন্য দপ্তর বা আঞ্চলিক অফিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এগোতে হবে।

Scroll to Top