রেল যাত্রীদের জন্য ফের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। আধুনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু করার কাজের জন্য নৈহাটি জংশনে আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাই চার ঘণ্টার নন-ইন্টারলকিং ট্রাফিক ব্লক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। এই ব্লকের জেরে একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি এবং যাত্রাপথেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করে যাত্রা করার পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১৯ জুলাই ভোর ৪টা পর্যন্ত মোট চার ঘণ্টা নৈহাটি জংশনে নন-ইন্টারলকিং ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় আধুনিক সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ চলবে। ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ট্রাফিক ব্লকের সরাসরি প্রভাব পড়বে শিয়ালদহ ডিভিশনের উপনগরীয় ট্রেন পরিষেবায়। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬৩১১১ শিয়ালদহ–রানাঘাট লোকাল, ৩১৪৪৭ নৈহাটি–শিয়ালদহ লোকাল এবং ৩১৪৫০ শিয়ালদহ–নৈহাটি লোকাল নির্ধারিত দিনে সম্পূর্ণ বাতিল থাকবে। ফলে নিত্যযাত্রীদের বিকল্প ট্রেন বা অন্যান্য পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
শুধু ট্রেন বাতিলই নয়, বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। ৬৩১০৬ লালগোলা–শিয়ালদহ লোকাল সেদিন শুধুমাত্র রানাঘাট পর্যন্ত চলবে। ফেরার সময় ট্রেনটি আর শিয়ালদহ পর্যন্ত যাবে না। একইভাবে ৩১১৯২ নৈহাটি–কল্যাণী সীমান্ত লোকাল কেবল কল্যাণী পর্যন্ত চলবে এবং ৩১১৯১ কল্যাণী সীমান্ত–নৈহাটি লোকাল কল্যাণী থেকেই যাত্রা শুরু করবে।
এছাড়াও ট্রাফিক ব্লকের কারণে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে ছাড়বে। ১৩১০৬ বালিয়া–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৩১৪২ নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস প্রায় এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট দেরিতে চলবে। অন্যদিকে ১৩১৬০ যোগবাণী–কলকাতা এক্সপ্রেস প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া ৫৩১৭২ লালগোলা–শিয়ালদহ প্যাসেঞ্জার প্রায় ৭৫ মিনিট দেরিতে চলবে বলে জানিয়েছে রেল।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী কয়েকটি ট্রেনকে বিভিন্ন স্টেশনে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত বিলম্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীদের তাই যাত্রার আগে রেলের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নৈহাটি জংশন পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন। প্রতিদিন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে এখানে সামান্য সময়ের ট্রাফিক ব্লকও বহু ট্রেন পরিষেবার উপর প্রভাব ফেলে। তবে রেল আধিকারিকদের দাবি, আধুনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং নির্ভুল হবে। সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং ট্রেন পরিচালনায় দক্ষতা বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ১৮ ও ১৯ জুলাই নৈহাটি জংশনের এই চার ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লকের কারণে একাধিক ট্রেন বাতিল, রুট পরিবর্তন এবং সময়সূচিতে বড়সড় পরিবর্তন হচ্ছে। তাই যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়াতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচি জেনে নেওয়া এবং প্রয়োজনে বিকল্প যাতায়াতের পরিকল্পনা করে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।











