বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পাওয়া গিয়েছে দময়ন্তী সেনকে। ১৫ বছর বয়সি এই প্রতিভাবান রাইফেল শুটারের সুস্থ স্বাভাবিকভাবে ফেরার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন তার প্রশিক্ষক এবং অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকার।’দময়ন্তীকে পাওয়া গিয়েছে, সে সুস্থ আছে’, পোস্ট করে জানিয়েছেন জয়দীপ। তারপর জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাট থেকে তাঁকে পাওয়া গিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দময়ন্তীর নিখোঁজ হওয়ার খবর চাউর হতেই একজন খবর দেন তাকে নাকি চন্দননগরে দেখা গিয়েছে। তারপর চন্দননগর পুলিশের সঙ্গে মিলে একটি সিট গঠন করে হাওড়া পুলিশ। তারপরই খোঁজ মিলল শুটারের। পরিবারের তরফ থেকে পুলিশকে এই নিয়ে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়া থেকে শ্রীরামপুর হয়ে বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছিল দময়ন্তী। হাওড়া ফেরার চেষ্টায় ছিল সে। তারপরই হাওড়ার গঙ্গার ঘাট থেকে তাকে সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে কীভাবে সে নিখোঁজ হয়ে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের বা পরিবারের তরফ থেকেও কিছু জানা যায়নি।
মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তী অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের কাছে রাইফেল শুটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। সম্প্রতি সে জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পায়। দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানিয়েছিলেন, এই সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই মেয়ে ভীষণ আনন্দিত ছিল এবং কঠোর অনুশীলন শুরু করে দিয়েছিল। প্রতিদিন ভোরে প্র্যাকটিস থাকার কারণে সে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ত। বৃহস্পতিবার সকালে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোয় দময়ন্তী। কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। অদ্ভুতভাবে, নিজের মোবাইল ফোনটিও সে বাড়িতেই রেখে গিয়েছিল। পরিবারের দাবি, বাড়িতে কোনও রকম অশান্তি বা ঝামেলা হয়নি। ফলে কোনও পারিবারিক ক্ষোভের কারণে সে ঘর ছেড়েছে এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তদন্তে নেমে পুলিশ দময়ন্তীর নিখোঁজ হওয়ার সূত্র খুঁজতে হাওড়া স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানে দেখা গিয়েছে, স্টেশনের ৪-৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ধরে একা হেঁটে বেড়াচ্ছে দময়ন্তী। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল একটি গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট এবং হাফ প্যান্ট। কিন্তু প্ল্যাটফর্মের ওই অংশের পর সে কোন দিকে গেল, তা এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর মেয়ের খোঁজ মেলায় স্বস্তি ফিরেছে সেন পরিবারে।










