প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এবার শনিবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন এনসিপিআই -এর দুই সাংসদ। এদিন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতার মধ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ বা এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এনসিপিআই সূত্রে খবর, এসআইআর-এর কারণে মুর্শিদাবাদ জেলায় সাধারণ মানুষের যে সমস্ত সমস্যা হচ্ছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন দুই সাংসদ। এর পাশাপাশি নিজ নিজ কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি ও স্থানীয় সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।
রাজনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই দুই সাংসদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েকদিন আগেই আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান এনডিএ ও বিজেপির থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। এনডিএ-র বৈঠকে দলীয় অন্যান্য সাংসদের উপস্থিতি থাকলেও তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন, যার ফলে দলবদলের জল্পনা তীব্র হয়।
তবে পরবর্তীতে এই সাংসদেরা দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন। সেই বৈঠকে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় এবং অসিত মালও উপস্থিত ছিলেন। পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এনডিএ সাংসদদের নৈশভোজ ও প্রাতরাশ বৈঠকেও যোগ দেন তাঁরা।
সাংসদেরা আগেই পরিষ্কার করে জানিয়েছিলেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে এনডিএ বা বিজেপির সঙ্গে না থাকলেও নিজেদের এলাকার উন্নয়ন এবং জনস্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারের সঙ্গেই প্রশাসনিক সহযোগিতা বজায় রাখবেন। সেই সূত্র ধরেই শনিবার নবান্নে এই সাক্ষাৎ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর মুর্শিদাবাদে বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বহু নাম এখনও বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলাগুলির নিষ্পত্তির জন্য একটি ট্রাইবিউনাল গঠন করেছে। তবে অভিযোগ, ট্রাইবিউনালে শুনানির গতি অত্যন্ত ধীর।
এই একই দাবিতে শুক্রবারও বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রতিটি জেলায় আলাদা ট্রাইবিউনাল গঠনের আর্জি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল।
তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় রাজ্য সরকারের এতে সরাসরি হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নেই। তবুও আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন, ট্রাইবিউনালে মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন কোনও ব্যক্তি সরকারি সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তবে যাঁরা এসআইআর-এ বাদ যাওয়ার পর ট্রাইবিউনালে আবেদন করেননি, তাঁরা এই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।










