২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগরতলায় বাম ছাত্র-যুবদের হুঙ্কার, কুশপুতুল দাহ

High News Digital Desk:

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হলো ত্রিপুরার চারটি বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠন। শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় যৌথভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, টিএসইউ এবং টিওয়াইএফ। মিছিল শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল দাহ করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি প্রতিবাদে শামিল হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসেবে আগরতলায় পথে নামে চারটি সংগঠন।

এদিন ছাত্র যুব ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব দিল্লিতে আন্দোলনকারী বামপন্থী ছাত্র ও যুব নেতাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

নবারুণ দেব বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে তাঁরা কোনওভাবেই পিছিয়ে আসবেন না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির জবাবদিহি প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এদিনের কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও সরব হন ডিওয়াইএফআইয়-এর রাজ্য সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, মোদী-শাহের স্বার্থ রক্ষার জন্য জ্ঞানেশ কুমার দেশে দুই ধরনের নাগরিক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ধরনের ব্যবস্থা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর পথে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে প্রতিবাদ জানাতে না পারেন। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনকে দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে পরিষেবা বন্ধের কারণ সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লি থেকে আগরতলা—বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। আগরতলায় চার বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বাম ছাত্র-যুব মহলেও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। আগামী দিনে এই দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Scroll to Top