ত্রিপুরার ক্রীড়া জগতের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের খবর। দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসর জাতীয় গেমসের জিমন্যাস্টিক্স ইভেন্ট এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রিপুরায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই জাতীয় গেমসে বিভিন্ন ইভেন্ট বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে জিমন্যাস্টিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ায় ত্রিপুরার ক্রীড়া মহলে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায় জানান, এই সাফল্যের পেছনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের ফলেই জাতীয় গেমসের জিমন্যাস্টিক্স ইভেন্টের আয়োজক হিসেবে ত্রিপুরা নির্বাচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এজন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার। তিনি বলেন, জাতীয় গেমস দেশের ক্রীড়া জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর, যা কার্যত ‘মিনি অলিম্পিক’ হিসেবে পরিচিত। সেই আসরের জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতা ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত হওয়া রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে রাজ্যের ক্রীড়াবিদরা আরও অনুপ্রাণিত হবেন এবং দেশের সামনে ত্রিপুরার ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ মিলবে।
দীপা কর্মকার আরও বলেন, সদ্য সমাপ্ত কমনওয়েলথ গেমসে ত্রিপুরার কন্যা অস্মিতা দে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে স্বর্ণপদক জয় করেছেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গোটা ত্রিপুরা গর্বিত। ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অস্মিতা দে-কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের কাছে অস্মিতা এখন এক অনুপ্রেরণার নাম।
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় গেমসের মতো বড় আসর ত্রিপুরায় সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যে ক্রীড়া সংস্কৃতির আরও বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে ত্রিপুরার পরিচিতি আরও সুদৃঢ় হবে।
ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাজ্যের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তাদের আগমন ঘটবে, যা রাজ্যের ক্রীড়া ও পর্যটন—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও ইতিমধ্যেই এই ঘোষণাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।











