রাজ্যজুড়ে অগস্টের শেষলগ্নে উদযাপিত হতে চলেছে রাখিবন্ধন উৎসব। আগামী ২৮ অগস্ট, ২০২৬ রাজ্যজুড়ে এই সামাজিক উৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ বিষয়ে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন (IAS) একটি নির্দেশিকা জারি করে কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং সব জেলার জেলা শাসকদের বিস্তারিত নির্দেশ পাঠিয়েছেন।
নবান্ন সূত্রের খবর, জাতীয় সংহতি, ভাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতেই এবার তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত রাখিবন্ধন পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কোথায় কোথায় হবে অনুষ্ঠান?
গ্রাম ও শহর, উভয় অঞ্চলেই যেন সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক স্তরে এই অনুষ্ঠান হবে। মহকুমা, জেলা সদর ছাড়াও কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাগুলির অন্তত ৪-৫টি নির্বাচিত ওয়ার্ডে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা হবে।
উদযাপনের মূল আকর্ষণ: তেরঙ্গা রাখি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবারের রাখিবন্ধন উৎসবের বিশেষ নজরকাড়া বিষয়টি হতে চলেছে ‘তেরঙ্গা রাখি’। জাতীয় পতাকার তিনটি রঙের অনুকরণে তৈরি এই বিশেষ রাখিগুলি দেওয়া হবে। রাজ্য যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে দ্রুত জেলাগুলিতে এই রাখি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের মেলবন্ধন
বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, রবীন্দ্রসংগীত, রবীন্দ্রনৃত্য ও স্থানীয় লোকশিল্পীদের পরিবেশনায় বাউল গান ও লোকসঙ্গীতের আসর বসবে। এছাড়াও স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যুব সংগঠন, মহিলা সমিতি এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোকে সরাসরি এই উদযাপনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট ও যৌথ উদ্যোগ
তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতর যৌথভাবে এই কর্মসূচি আয়োজন করছে। প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের অনুমোদন আগেই দেওয়া হয়েছে এবং যুব কল্যাণ দফতর দ্রুত বরাদ্দ অর্থ জেলাগুলোর কাছে পাঠাবে। তবে সমস্ত খরচের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি কড়াভাবে মেনে চলার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
উৎসব শেষে ছবিসহ বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’দ্রুত নবান্নে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








