প্রবীণ আইনজীবী ও সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার ভোরের দিকে গড়িয়ার একটি এলাকা থেকে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে এই গ্রেফতারি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম বাপ্পা গুছাইত (২৯)। সে গড়িয়ার বয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার ভোর চারটে নাগাদ পুলিশ তাকে আটক করে ও পরে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা, সাধারণের নিরাপত্তায় বাধা সৃষ্টি করা, অশালীন আচরণ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এলাকার শান্তিভঙ্গ করা এবং ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা, প্রতারণা এবং জালিয়াতির একাধিক ধারাও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে হামলার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ ওঠে যে, তাঁর বাড়ির সামনে এসে মদের বোতল ছুড়ে জানলার কাচ ভেঙে ফেলা হয় এবং অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছিলেন যে, এই হামলার নেপথ্যে কিছু নির্দিষ্ট হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও তাঁদের অনুগামীরা জড়িত রয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময় তাঁর বাড়ির সামনে এক ব্যক্তি এসে বোতল ছোড়ে এবং সেই সময় তাঁর বাড়িতে কর্মরত এক মহিলা অল্পের জন্য বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ গামছায় ঢাকা এক যুবক সেখানে এসে বোতল ছুড়ছে এবং উস্কানিমূলক ও অশালীন মন্তব্য করছে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগেসের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেই পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। বর্তমানে পুলিশ এই হামলার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, এর নেপথ্যে অন্য কারও প্ররোচনা বা নির্দেশ ছিল কি না এবং এই ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।










