রাজ্যের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় এবার বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করতে জাতীয় শিক্ষানীতি ও PM-SHRI প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজ্য। এর ফলে আগামী দিনে সরকারি স্কুলে সোলার প্যানেল, মেয়েদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন মেশিন, বিশুদ্ধ পানীয় জল, উন্নত শৌচাগার-সহ একাধিক নতুন সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ও স্কুল আধুনিকীকরণে বড় উদ্যোগ
একটি বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য এবার জাতীয় শিক্ষানীতি এবং PM-SHRI প্রকল্পের আওতায় কাজ করবে। বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের আসার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি। তবে দিল্লি থেকে ৮ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক বৈঠকে যোগ দেন। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আগের সরকারের সময়ে কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয় না থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এখন সেই সমস্যা কাটিয়ে চলতি আর্থিক বছরে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মূলত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকের সংখ্যা ঠিক রাখা, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে (West Bengal Education)।
৮১ হাজার স্কুলে বদল আনার পরিকল্পনা
রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার স্কুলকে (West Bengal Education) ধাপে ধাপে নতুন সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলগুলিতে সোলার প্যানেল বসানো হবে। পাশাপাশি মিড-ডে মিল রান্নার জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও স্কুলগুলিতে পরিষ্কার শৌচাগার, আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল এবং আরও ভালো পরিবেশ তৈরির দিকে নজর দেওয়া হবে। পড়ুয়ারা যাতে পরিষ্কার থালা-বাসনে খাবার খেতে পারে এবং নিরাপদ জল পান করতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করা হবে।
এই কাজের শুরু হবে বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার স্কুলগুলি থেকে। যেসব স্কুলে এখনও পর্যাপ্ত পাখা নেই, সেখানেও পাখা বসানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে গরমের সময় ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা না হয়।
মেয়েদের স্কুলে বসবে ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন
মেয়েদের স্কুলের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহারের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় রাজ্যে আরও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা (West Bengal Education) তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। সেই কারণে শিক্ষা আইনে কিছু পরিবর্তন আনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব যাতে অভিভাবকদের দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে বিধানসভায় বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিড-ডে মিলের টাকাও বাড়ছে
মিড-ডে মিল নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অগাস্ট থেকে প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। এখন যেখানে একজন পড়ুয়ার জন্য ৬ টাকা ৭৮ পয়সা দেওয়া হয়, তা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হবে। এছাড়া কলকাতা-সহ কয়েকটি জায়গায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইস্কনের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্কুলের পড়ুয়ারা আরও ভালো মানের খাবার পাবে বলে জানানো হয়েছে (West Bengal Education)।










