২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বৃহস্পতিবার ১৫ জুলাই ২০২৬
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বৃহস্পতিবার ১৫ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

High News Digital Desk:

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বর্ষা ফের পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে বুধবার জারি করা বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে রাজ্যে আগামী চার দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার এক-দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, সেই সঙ্গে বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলেও বর্ষার প্রভাব বেড়েছে। আবহাওয়া দফতর দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। এছাড়া কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার-সহ উপ-হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একটানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা-সহ প্রধান নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার গতিবেগ সর্বোচ্চ ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে আবহাওয়া দফতর ১৫ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বুধবার আংশিক থেকে মেঘলা আকাশ থাকবে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকার অনুমান রয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টির আগে পর্যন্ত আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।

Scroll to Top