২ ভাদ্র ১৪৩৩ বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩ বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬

নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, মৃত ৯

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতলে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং একটি শিশু।
আবাসিকদের অভিযোগ, বহুতলে ছিল না পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি নির্গমন পথ। ধোঁয়ায় আটকে পড়েন বহু মানুষ। দমকল এসে তাঁদের উদ্ধার করে।
একই বহুতলে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস চলা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

High News Digital Desk:

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি তার মধ্যেই কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুন। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। মুহূর্তে ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘর। তখন অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠছে নানা প্রশ্ন। আবাসিকদের একাংশের দাবি, আগুন লাগার পরেও হোটেল কর্তৃপক্ষের কারও দেখা মেলেনি। ছিল না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিকেরা হোটেল ছেড়ে বার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোন রাস্তা দিয়ে বার হবেন, ধোঁয়ায় তা অনুমান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এক আবাসিকের কথায়, ‘‘দমকলকর্মীরা না-এলে আমরাও হয়ত বাঁচতে পারতাম না!’’

স্থানীয় সূত্রে খবর, সাধারণত ভিন্‌রাজ্য বা বাইরের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা ওই বাড়ির হোটেলগুলিতে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে যখন সকলে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেক আবাসিকই হোটেলের ঘরে আটকে পড়েন। ওই বহুতলে ঢোকা এবং বেরোবার পথ একটাই। সেটাও সঙ্কীর্ণ। আবাসিকদের দাবি, হোটেলে কোনও আপৎকালীন নির্গমন দ্বার ছিল না। কেউ কেউ শৌচাগারে ঢুকে পড়েন। সেখানকার জানলা ভেঙে বার হওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। দমকলবাহিনী এসে ওই বিল্ডিংয়ে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে।

প্রশ্ন উঠছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে হোটেলগুলি চলছিল? হোটেল চালানোর মতো দমকলের ছাড়পত্র ছিল মালিকদের কাছে? ঘুপচি ঘুপচি ঘরে নিরাপত্তা কোথায়? আবাসিকদের মধ্যে ছিলেন দুই বন্ধু। মঙ্গলবার রাতেই রামপুরহাট থেকে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইজাজ আহমেদ নামে এক জন জানান, তাঁরা ওই ভবনের চারতলায় অন্য গেস্ট হাউসে ছিলেন। সাড়ে ১২টা নাগাদ খাওয়া সেরে ঘুমোতে যান। রাত ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ দুই মহিলার আর্তনাদ শুনে তাঁদের ঘুম ভাঙে। তাঁরা দরজা খুলতেই ঘরে ধোঁয়া ঢুকে যায়। তাঁদের কথায়, ‘‘ঘর থেকে বেরিয়ে যে বারান্দা, তা খুব সরু। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল সেটা।’’

নিউ মার্কেটের ওই ভবনের একদম উপরের তলায় এক পরিবার থাকত। তাদেরকেও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পরিবারের এক মহিলা জানান, তাঁদের যখন নীচে নামানো হয়, তখন আগুন নিবে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষগুলিকে বার বার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা লাগাতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ নিয়ম মানেননি। প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি।

বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, হোটেলগুলি বিধি মেনে তৈরি হয়নি। হোটেলের ঘরের সংখ্যা বাড়াতে পিলার কেটে জায়গা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ওই হোটেল ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সন্তোষের অভিযোগ, ‘‘এ গুলো মূলত আবাসিক ভবন ছিল। সেটাকে বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক করা হয়েছে।’’

নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে।

Scroll to Top