২০ মাঘ ১৪৩২ বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২ বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিল্লিতে AITMC সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলন

High News Digital Desk:

* সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন সাংসদ ও পূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করে এবং ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরে। এর আগে, গত ২৮ নভেম্বরও ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে ৫টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল, কিন্তু সেগুলির কোনওটিরই সদুত্তর মেলেনি।

* গতবারের বৈঠকেও নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি, অথচ বেছে বেছে কিছু সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। সেই রাতেই তৃণমূল কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলে ডিজিটাল প্রমাণসহ জানিয়ে দেয়, প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনও প্রশ্নেরই সুরাহা হয়নি।

* এবারের বৈঠকেও ১০-১১টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ২-৩টি ছাড়া বাকি বিষয়গুলিতে চরম অস্পষ্টতা ছিল। SIR সংক্রান্ত প্রশ্নগুলিকে বারবার নাগতিকত্বের ইস্যুর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ডিলিশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফর্ম-৭ পূরণ করার মতো দায়সারা ও পদ্ধতিগত উত্তর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

* প্রতিনিধি দল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তথ্যে logical discrepancies’র বিষয়টি তুলে ধরে। এর মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের অযৌক্তিক ব্যবধান, দাদু-দিদিমার বয়সের গরমিল, নাম ও পদবীর বানান ভুল এবং ঠিকানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সেই বিস্তারিত তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

* গতকাল রাতে আমি জানতে পারি, AERO-দের লগইনে অসঙ্গতিপূর্ণ কেসগুলো ধাপে ধাপে আপলোড করা হচ্ছে, কিন্তু যে অ্যাপের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে, তাতে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। Logical Discrepancies সংক্রান্ত কোনও কেস খুললেই চারটি অপশন আসছে:“Send to DEO,” “Generate Hearing Notices,” “Found OK,” এবং “Found Ineligible.”। কিন্তু সমস্যা হল, নথি জমা দেওয়ার পর “Found OK” নির্বাচন করা হলেও অ্যাপ থেকে শুনানির নোটিশ জেনারেট হয়ে যাচ্ছে। এর কোনও সদুত্তর কমিশন দিতে পারেনি, তারা কেবল অ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছে।

* প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার বিষয়টিও বৈঠকে জোরালোভাবে তোলা হয়। অসুস্থ এবং বয়স্ক ভোটারদের যেভাবে শুনানির কেন্দ্রে ডেকে সিঁড়ি ভাঙানো হচ্ছে বা দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হচ্ছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। যদিও সম্প্রতি ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ছাড় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, কিন্তু প্রতিনিধি দল দাবি জানিয়েছে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন যাবত রোগে আক্রান্তদেরও এই ছাড় দিতে হবে। কমিশন বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলেও কোনও নিশ্চয়তা দেয়নি।

* আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন, উভয় স্তরেই ধারাবাহিকভাবে এই সমস্যাগুলি নিয়ে সরব হয়েছে।

* বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে জানতে চায়, খসড়া তালিকা থেকে যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গেছে, তার মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি নাগরিক? কমিশন এর কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি। বেআইনি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা এবং তাদের ফেরত পাঠানো সমর্থনযোগ্য হলেও, এই সংখ্যার স্বচ্ছতা ও সঠিক তথ্যের দাবি জানানো হয়েছে।

* পশ্চিমবঙ্গে মাইক্রো-অবজারভারদের নিয়োগ নিয়েও আমরা প্রশ্ন তুলি। দেশের একাধিক রাজ্যে যেমন তামিলনাড়ু, গুজরাত, ছত্তিশগড়, কেরল ও উত্তরপ্রদেশে SIR প্রক্রিয়া চলছে। পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় তামিলনাড়ু (১২.৫৭%), ছত্তিশগড় (৮.৭৬%), গুজরাত (৯.৯৫%) এবং কেরলে (৬.৬৫%) নাম বাদের হার অনেক বেশি, যেখানে বাংলায় তা মাত্র ৫.৭৯%। অথচ মাইক্রো-অবজারভার এবং জেলা পর্যবেক্ষকদের শুধুমাত্র বেছে বেছে বাংলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে। কমিশনের যুক্তি ছিল অফিসারের অভাব রয়েছে। কিন্তু আমি পাল্টা জানাই শুনানির সময়েও ১০ জন AERO-কে বসিয়ে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ সব আধিকারিককে কাজে লাগানো হচ্ছে না। এতেই বোঝা যায়, কমিশনের কাছে সঠিক তথ্য নেই এবং তারা বাস্তবতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিজেও বাংলায় কীভাবে SIR রূপায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে সরাসরি যুক্ত নন বলেও মনে হচ্ছে।

* এসব থেকেই স্পষ্ট, উপরতলার নির্দেশে কাজ চলছে এবং তৃণমূল স্তরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে যান্ত্রিকভাবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। তা না হলে, “Found OK” মার্ক করার পরেও কেন কেসটি বন্ধ না হয়ে শুনানির নোটিশ যাবে? মাইক্রো-অবজারভারদের নিয়ে প্রশ্নেরও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

* DEO-দের ওপর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে হাজার হাজার নথি যাচাই করার যে নির্দেশ চাপানো হয়েছে, তার বাস্তবতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষত ভিনরাজ্যের নথির ক্ষেত্রে এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা কমিশনকে প্রশ্ন করি, যদি কোনও ভোটার নিজেকে বাংলার বাসিন্দা দাবি করে নথি জমা দেন, অথচ তাঁর দশম শ্রেণির শংসাপত্র তামিলনাড়ু, রাজস্থান বা অন্য কোনও রাজ্যের হয়, তবে মাত্র পাঁচ দিনে হাজার হাজার এমন কেস যাচাই করা একজন DEO-র পক্ষে কি বাস্তবে সম্ভব? এই সিদ্ধান্ত কি যুক্তিহীন নয়?

* বাংলায় সমীক্ষার জন্য Data Mission নামে একটি থার্ড পার্টি সংস্থাকে নিয়োগ করার প্রসঙ্গটিও আমরা তুলে ধরি। বিষয়টি শুনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, তিনি এমন কোনও নিয়োগ সম্পর্কে জানেন না; সম্ভবত তাঁর অজান্তেই সিইও অফিস থেকে এটি করা হয়েছে। আমরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলি, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়ে একটি রাজ্যে তৃতীয় সংস্থাকে কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব? এরপর কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সংশ্লিষ্ট নথির প্রতিলিপি তাঁদের হাতে তুলে দিই।

* কেউ যদি মনে করেন যে আমি মিথ্যা বলছি, তবে নির্বাচন কমিশনের উচিত বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা, কারণ আমাদের ভেতরে ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় কী ঘটেছে, তা জানার অধিকার মানুষের রয়েছে।

* ERO-দের সাথে পরামর্শ না করে বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাক-এন্ড থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা প্রশ্ন তুলেছি যে, যথাযথ প্রক্রিয়া বা ‘ফর্ম ৭’ ব্যবহার না করে কীভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা সম্ভব? উত্তরে বলা হয়েছে যে, কেউ enumeration form জমা না দিলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে, তাত্ত্বিকভাবে আমরা তাতে একমত হয়েছি। কিন্তু এরপর আমরা প্রশ্ন করি, একজন জীবিত মানুষের নাম কীভাবে তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে? উত্তর আসে যে, ওই ব্যক্তি ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করে নাম পুনরুদ্ধার করতে পারেন। কিন্তু এমন ভুলের জন্য দায় কে নেবে? উক্ত ব্যক্তি পুনরায় আবেদন করতে পারলেও, এই ভুলের দায় কে নেবে সেই বিষয়ে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

* এরপর আমরা ভোটার ম্যাপিং তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার বিষয়টি তুলি। যখন বাংলায় SIR ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল যে, ৪৫ শতাংশ ভোটারের ম্যাপিং হয়নি। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় যে, ৮৮.২ শতাংশ বা প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটারের ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে কিছু self-mapped এবং প্রায় ৪০ শতাংশ progeny-mapped। বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এই যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হল, তার জন্য দায়ী কে? এর কোনও সুনির্দিষ্ট উত্তর মেলেনি।

* এরপর আমরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যাটি উত্থাপন করি। আপনারা বলেছিলেন যে, ফর্ম পূরণের সময় পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের যেকোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য ফর্ম জমা দিতে পারবেন, যাতে ওই শ্রমিককে সশরীরে আসতে না হয়। ধরুন হুগলির একজন শ্রমিক তামিলনাড়ু বা পঞ্জাবে কাজ করছেন, তাকে শুনানির জন্য সশরীরে ডেকে এনে হয়রানি করা যায় না।

* সুপ্রিম কোর্ট এবং সমস্ত হাইকোর্টে যদি ভার্চুয়াল শুনানি হতে পারে, তবে নির্বাচন কমিশন কেন ভার্চুয়াল শুনানি করতে পারবে না? এই পয়েন্টে তিনি একমত হন এবং জানান যে, তিনি এটি নোট করছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। বৈঠকে যা যা ঘটেছে, আমি ঠিক তাই বলছি। সাংবাদিকদের উচিত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানানো।

* এরপর বাংলার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রসঙ্গ উঠে আসে। মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করে বাংলার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের মতো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার বিষয়টি আমরা তুলি। বিহারে কোনও পরিযায়ী শ্রমিককে শুনানির জন্য সশরীরে ডাকা হয়নি। একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার ভিত্তিতে পরিবারের কোনও সদস্য (মা, স্ত্রী বা বাবা) BLO-র কাছে নথি জমা দিলে সেই শ্রমিককে আর ডাকা হয়নি। বিহারের জন্য এক নিয়ম আর বাংলার জন্য অন্য নিয়ম কেন?

* আমরা ৮-১০টি প্রশ্ন তুলেছিলাম, যার মধ্যে প্রতিবন্ধী এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের ইস্যু ছাড়া বাকি অধিকাংশেরই কোনও সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর তারা দিতে পারেনি। আমি শুনানির জায়গা স্থানীয় স্তরে করার দাবিও তুলেছি, যাতে তারা রাজি হয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, জেলাশাসক ও DEO চাইলে শুনানির কেন্দ্র বাড়াতে পারেন। তারা এটি লিখিতভাবে দেননি, কিন্তু যেহেতু মৌখিকভাবে বলেছেন, আমরা বিষয়টি দেখব। শুনানির কেন্দ্র বাড়লে মানুষের ভোগান্তি কমবে।

* এরপর তারা প্রশ্ন করেন যে, কেন আমরা শুনানির জায়গায় আমাদের BLA2 প্রতিনিধিদের উপস্থিতি চাই। আমি পাল্টা যুক্তি দিই যে, নির্বাচনে যদি পোলিং এজেন্ট থাকতে পারে এবং গণনা ফর্ম বিতরণের সময় BLO-দের সাথে যদি BLA2 থাকতে পারে, তবে শুনানির সময় তারা কেন থাকতে পারবে না? যখন তিনি এটি অস্বীকার করেন, আমি তাকে এই বিষয়ে সার্কুলার জারি করতে বলি, যা তিনি মানতে নারাজ ছিলেন। আমি তখন পরিষ্কার বলি যে, সার্কুলার জারি না হলে আমাদের BLA2 প্রতিনিধিরা শুনানির জায়গায় উপস্থিত থাকবেন।

* তিনি এমন সার্কুলার জারি করতে পারবেন না। কারণ তিনি জানেন এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে। মৌখিক কথার কোনও মূল্য নেই।

* আমি আবারও বলতে চাই, অতীতে কংগ্রেস যে ভুলগুলো করেছিল, যা আম আদমি পার্টি বা বিহারের আরজেডিও ধরতে পারেনি, সেই সুযোগেই বিজেপি ৮৮ শতাংশের বেশি স্ট্রাইক রেটে জিতেছে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং বিহারে বিজেপি ৮৮ শতাংশ স্ট্রাইক রেটে জিতেছে। এটা কি কোনও কাকতালীয় বিষয়? এটা হল ভোট চুরি। এই ভোট চুরি ইভিএম দিয়ে হয় না (ভোটার তালিকায় কারচুপির মাধ্যমে হয়)। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অন্য রাজ্যগুলিতে এটি ধরতে পারেনি।

* নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। সরকার চলে সার্কুলার এবং বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে নয়। কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন কি কোনও সার্কুলার জারি না করে শুধু হোয়াটসঅ্যাপ করে দেশ চালাতে চায়? সার্কুলার জারি করতে তাদের বাধা কোথায়? BLA2 প্রতিনিধিরা কেন শুনানি প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারবেন না? নির্বাচন কমিশন কী লুকোতে চাইছে? কেন কমিশন Discrepancy list জনসমক্ষে আনছে না? তথ্য গোপন করে কীভাবে তালিকা সংশোধন করা সম্ভব?

* তারা মনে করেন যে, গলার স্বর উঁচিয়ে বা আক্রমণাত্মক কথা বলে সবাইকে চুপ করিয়ে দেবেন। আমরা যখন কথা বলতে শুরু করি, তিনি মেজাজ হারাতে থাকেন। তিনি আমাদের কয়েকজনকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং আমার দিকে আঙুল তোলেন। আমি তখন বলি যে, আপনি একজন মনোনীত আধিকারিক, কিন্তু আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আপনি আপনার প্রভুদের কাছে দায়বদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু আমি সেই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ,যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতেই আমরা এখানে এসেছি।

* যদি তার সাহস থাকে, তবে ফুটেজ প্রকাশ করুন। আমি নির্বাচন কমিশন অফিসের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছি। আমি সংবাদমাধ্যমের সামনে যা বলছি, জ্ঞানেশ কুমার নিশ্চয়ই তা শুনতে পাচ্ছেন। যদি সাহস থাকে, তবে রাত ৮টার পর বাছাই করা তথ্য ‘লিক’ না করে নিচে নেমে এসে মিডিয়ার মুখোমুখি হন এবং আমার প্রতিটি পয়েন্ট খণ্ডন করুন। তাকে কীসে আটকাচ্ছে? তিনি কি মনে করেন, বাংলার মানুষ তার অধীনস্থ প্রজা? তিনি কি মনে করেন বাংলার মানুষ এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত আমরা এই সাংসদ, মন্ত্রী এবং বিধায়করা,তার কেনা গোলাম কিংবা দাস?

* প্রবীণ নাগরিকদের জন্য শুনানির কেন্দ্র স্থানীয় স্তরে করতে বা তাঁদের স্বস্তি দিতে নির্দেশ জারি করতে আপনাদের কে বাধা দিচ্ছে? সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা, বিশেষ করে যারা শারীরিকভাবে দুর্বল, তারাই প্রবীণ নাগরিক। কেন তাঁদের শুনানি কেন্দ্রতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে? কে তাঁদের স্বস্তি দেবে? তাঁদের রক্ষা করা আপনাদের সাংবিধানিক কর্তব্য। আপনারা কি পিএমও বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করবেন? এই কথা মাথায় রেখে যে, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সিইসি (CEC) হওয়ার আগে কো-অপারেশন মন্ত্রকের সচিব ছিলেন। আর তখন কো-অপারেশন মন্ত্রী কে ছিলেন, আর এখন কে?

* আপনারা কি মনে করেন এটা একটা কাকতালীয় ঘটনা যে কো-অপারেশন সচিবকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে? – তাঁকে সংবিধান এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার মিশনে পাঠানো হয়েছে। এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। তিনি মনে করেন তাঁকে যা বলা হবে, আমরা কেবল তা নীরবে শুনব। বাংলার মানুষ অন্য ধাতুতে গড়া। বিজেপি তাদের হাতে থাকা সমস্ত এজেন্সি ব্যবহার করুক। ২০১২, ২০২১, ২০২৪ সালে তারা মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং ২০২৬ সালেও তাই হবে। আমরা জনগণের শক্তির সামনে মাথা নত করব, ক্ষমতায় থাকা মানুষের সামনে নয়।

* আপনাদের মধ্যে যদি সামান্যতম সাংবাদিকতার নীতি অবশিষ্ট থাকে, যদি আপনারা সত্যি বিশ্বাস করেন যে একটি স্বচ্ছ গণতন্ত্র এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য আপনারা গুরুত্বপূর্ণ, তবে জ্ঞানেশ কুমারকে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ প্রকাশ করতে বলুন। জ্ঞানেশ কুমার ছাড়া আর কেউ কথা বলেননি; বাকি দু’জন চুপ ছিলেন। একজন বড়জোর ৩০ সেকেন্ড কথা বলেছিলেন একটি পয়েন্ট তুলে ধরার জন্য, ব্যস ওইটুকুই। কী ব্রিফ দেওয়া হয়েছিল? যে শুধু তিনিই কথা বলবেন আর তৃণমূল নেতারা নীরবে শুনবেন এবং চলে যাবেন? আমরা আপনাদের সরকারকে বিদায় জানাতে এসেছি। এটি আপনাদের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ। ইসিআই , ইডি , সিবিআই , আধাসামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, মিডিয়া—সব ব্যবহার করুন, কিন্তু জনগণ আমাদের সাথে আছে।

* কংগ্রেস যদি এটা ধরতে পারত, তবে বিজেপি হেরে যেত। কংগ্রেস জিতে যেত। আমি সমস্ত সমমনোভাবাপন্ন দল, বিশেষ করে বিরোধীদের কাছে আবেদন করছি: চুরি হচ্ছে ভোটার তালিকায়, সফটওয়্যারে, ইভিএম-এ নয়। অন্যথায় আমাদের ইভিএম পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হোক। আপনারা বুঝতে পারছেন না যে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এবং তালিকা থেকে বাদ দিতে কী ধরনের অ্যালগরিদম এবং সফটওয়্যার চালানো হচ্ছে। আর যদি এটি না ঘটে থাকে, তবে ১.৩৬ কোটি logical discrepancies-এর তালিকা প্রকাশ করুন।

* SIR আগেও হয়েছে; তাতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু তখন কোনও Suspicious তালিকা ছিল না, কোনও logical discrepancies-এর তালিকা ছিল না। ২০০২-২০০৩ সালে এরকম কিছু ছিল না। আমি সিইসি-কে বলেছি যে আপনারা এই তালিকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এই তালিকা কোথা থেকে এসেছে? কে এই তালিকা তৈরি করেছে? সফটওয়্যারটি চালিয়ে আমাদের দেখান। আমাদের ছেড়ে দিন, মিডিয়াকে দেখান।

* মিডিয়ার কেউ আমাকে এটা বলুন: বাংলার ভোটার তালিকায় ৭.৬৬ কোটি ভোটার ছিল, ৫৮ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই প্রায় ৭.০৮ কোটি বাকি আছে। এই প্রক্রিয়ায় ৮০,০০০ BLO, ৮,০০০ BLO supervisors, ৩,০০০ AERO, ৩০০ ERO, ২৩ জন DEO এবং পুরো প্রশাসন জড়িত ছিল এবং এতে দুই মাস সময় লেগেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এমন কী জাদুকাঠি আছে যে তারা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পুরো তালিকাটি পরিষ্কার করে দিল এবং ঘোষণা করতে পারল যে ১.৩৬ কোটি মানুষের তথ্যে discrepancies রয়েছে? উভয় তালিকাই একই দিনে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি কীভাবে সম্ভব? এটি দেখায় যে আপনারা কতটা ভীত। আপনারা চান না মানুষ ভোট দিক। এটি বিজেপির ‘নিউ ইন্ডিয়া’- আগে ভোটাররা ঠিক করত কারা ক্ষমতায় থাকবে; এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা ঠিক করে কারা ভোট দেবে। প্রত্যেকের উচিত একসাথে এর বিরোধিতা করা এবং এই ভোট চুরির ঘটনাগুলো উন্মোচন করা। আমরা বাংলায় এটি ধরে ফেলেছি।

* ডানকুনিতে আমাদের একজন কাউন্সিলর আছেন যাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। এমন হাজার হাজার কেস আছে; আমি আপনাদের তালিকা দেব। যখন আপনারা এসআইআর-এর সময় সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন, তখন বলেছিলেন যে আত্মীয়ের জায়গায় আপনি যে কাউকে বসাতে পারেন- মাসি বা পিসিকেও। এখন দেখবেন মা বা বাবা ছাড়া অন্য কোনও সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে না। আমি তাঁকে এটি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আর তিনি বলেছিলেন যে তিনি সাংবাদিকদের আলাদা উত্তর দিয়েছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি কোনটি সত্য। বিজেপি চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না, কিন্তু সংবিধান থাকবে, তাই নিশ্চিত করুন যে আপনারা আইনের পরিধি ও মাপকাঠির মধ্যে কাজ করছেন।

* প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার পরামর্শ হল মাটিতে থেকে কাজ করুন, এভাবেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়, সোশ্যাল মিডিয়া বা মিডিয়া চ্যানেলে নয়, এবং ভোটার তালিকায় যে দুর্নীতি হচ্ছে তা ধরুন। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই লড়াই শুরু হয়েছে। লড়াই এখন ময়দানে।

* সবাই বিজেপিকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু কী হল? বিজেপি চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্রে ৪০ লক্ষ ভোটারকে যুক্ত করেছে। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নিজের নির্বাচনী এলাকায় বিজেপি দশ মাসে ২০,০০০ ভোটার যোগ করেছে। মহারাষ্ট্রে প্রতি মাসে ৮-১০ লক্ষ ভোটার যুক্ত করা হয়েছে। ৫ বছরে যা হয়েছে, বিজেপি তা ৪ মাসে করে দেখিয়েছে। কিন্তু তারা তা ধরতে পারেনি। আমরা পেরেছি।

* ভোটার তালিকা যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে জয়ের ব্যবধান বাড়তে বাধ্য। তারা এর পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা এবং বিশাল জনবল ব্যয় করছে। অমিত শাহ কোথায়? বাংলায়। কিন্তু এত কিছুর পরেও বাংলায় তাদের ভোটের হার বাড়ছে না। কেন? কারণ আমরা তাদের ধরে ফেলছি।

Scroll to Top