সপ্তমীর সেই অভিশপ্ত সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে কীভাবে ঘটেছিল ভয়াবহ বিপর্যয়? ১৯ জনের মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, কোথায় ছিল গাফিলতি? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তে নেমে একের পর এক বিষয় খতিয়ে দেখছে লালবাজার। আর সেই তদন্তেই সামনে এল সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মণ্ডপ ও আশপাশে ৩২টি ক্যামেরা থাকার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তার মধ্যে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ পায়নি পুলিশ। পাশাপাশি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে মণ্ডপশিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল এবং ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মোট ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ক্যামেরার ফুটেজ হাতে আসেনি। কেন ওই ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা বাকি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ইতিমধ্যে পাওয়া ছবিগুলিও খতিয়ে দেখছেন। বিপর্যয়ের আগে ও পরে মণ্ডপের সামনে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, ভিড় কীভাবে বাড়ল এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথে কী ঘটেছিল, ফুটেজ থেকে তার সূত্র পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, মণ্ডপ তৈরির নকশা ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব করেছে লালবাজার। বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কী পরিকল্পনায় মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা কেমন ছিল, সেই সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
ঘটনার দিন চোরবাগান মণ্ডপের সামনে এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথে যাঁরা পুলিশি দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেই দিনের ডিউটিতে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে। তাঁদের কোথায় মোতায়েন করা হয়েছিল, কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং বিপর্যয়ের সময় তাঁরা কী পদক্ষেপ করেছিলেন, তা জানতে বয়ান রেকর্ড করা হবে। এছাড়া, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিন জনকেও সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে ডাকা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত ২ ঘোষক, যাঁরা ঘটনার আগে মণ্ডপ ভেঙে যাবে বলে দর্শনার্থীদের বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। বিপর্যয়ের নেপথ্যে তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
চোরবাগানকাণ্ডে ১৯ জনের মৃত্যুর পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতদের পরিজনেরা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং মৃত ও আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখবে ওই দল।











