ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সাইয়্যেদ আলি খামেনেই–র মরদেহ মঙ্গলবার সকালে কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে ঐতিহাসিক জামকারান মসজিদে তাঁর উদ্দেশে বিশেষ জানাজার নামাজ ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এরপর তাঁর শেষযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। এর আগে ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে , কোম প্রদেশের গভর্নর জেনারেল আকবর বেহনামজু মরদেহ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে পয়গম্বর-এ-আজম বুলেভার্ড হয়ে শোভাযাত্রা হজরত মাসুমেহর পবিত্র মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়। ৫ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রার্থনা সভায় অংশ নেন। ৬ জুলাই তেহরানে বিশাল শেষযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে বিপুল জনসমাগম হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ জুলাই শেষযাত্রা মাশহাদে পৌঁছবে। সেখানে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে। এরপর দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।
আরও জানা গেছে , গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। সোমবার জানাজার নামাজে নেতৃত্ব দেন আয়াতোল্লা জাফর সোবহানি। তবে খামেনেই–র উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই এখনও পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি।
উল্লেখ্য, ৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত কোমের জামকারান মসজিদ, যা ‘সাহিব আল-জামান মসজিদ’ নামেও পরিচিত, শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। শিয়া সম্প্রদায়ের দ্বাদশ ইমাম মাহদির উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত এই মসজিদে প্রতি মঙ্গলবার রাতে বহু ভক্ত প্রার্থনা করতে আসেন। বিশেষ সংকট বা সংঘাতের সময় এই মসজিদের গম্বুজে ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলনের প্রথাও রয়েছে।








