১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ শুক্রবার ০৪ জুন ২০২৬
১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ শুক্রবার ০৪ জুন ২০২৬

আগরতলায় মোবাইল দোকানের আড়ালে নেশা কারবার, উদ্ধার ইয়াবা ও এসকপ সিরাপ

High News Digital Desk:

রাজধানী আগরতলায় মোবাইল ফোনের দোকানের আড়ালে চলা একটি কথিত নেশা কারবারের পর্দাফাঁস হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ি রোডস্থিত ‘মোবাইল বাজার’ নামে একটি দোকানে পুলিশ ও স্থানীয় যুবকদের যৌথ তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এসকপ সিরাপ ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর কয়েকজন সচেতন যুবক প্রথমে সিদ্ধিআশ্রম সংলগ্ন এলাকার ‘মোবাইল বাজার’ নামে একটি দোকানে অনুসন্ধান চালান। সেখানে সন্দেহজনক কিছু না মিললেও দোকানটির মালিক হিসেবে আদিত্য দাস নামে এক ব্যক্তির নাম সামনে আসে। জানা যায়, আদিত্য দাসের বাড়ি ধলাই জেলার কমলপুরের মানিকভাণ্ডার এলাকায়। বর্তমানে তিনি একটি পকসো মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

পরবর্তীতে যুবকরা জানতে পারেন, আদিত্য দাসের নামে লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ি রোড এলাকায় একই নামের আরও একটি মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে। এরপর পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশের সহযোগিতায় ওই দোকানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় যুবকদের উপস্থিতিতে পরিচালিত তল্লাশিতে দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এসকপ সিরাপ এবং ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকসামগ্রীর সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফোন ব্যবসার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এ ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মায়ানমার থেকে অসম ও মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ত্রিপুরাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পাচার করা হয়ে থাকে। ইয়াবা, কোকেন ও মরফিনজাতীয় নেশাসামগ্রী এই রুটে পাচার হওয়ার বিষয়েও স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন।

তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা ও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। এ বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বৈধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ ইতিমধ্যে এনডিপিএস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকসামগ্রীর উৎস, পাচারচক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং এই কারবারের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানের দাবিও জোরালো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তরুণ সমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Scroll to Top