২৪ মাঘ ১৪৩২ রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ মাঘ ১৪৩২ রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অধ্যক্ষের ইস্তফা গ্রহণ না করাই কাল হল, বিপাকে রাজ্য সরকার

কলকাতা : অরজি কর হাসপাতালে অসন্তোষ বাড়তেই অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন সন্দীপ ঘোষ। ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে বসানো হয় সন্দীপকে।অন্যদিকে আরজি করের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সন্দীপ ঘোষের জায়গায় আরজি করের অধ্যক্ষ করা হয় সুহৃতা পালকে। সুহৃতা স্বাস্থ্য ভবনের ওএসডির দায়িত্ব সামলেছেন এতদিন। অন্যদিকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অজয় রায়কে স্বাস্থ্য ভবনের ওএসডি পদে বসানো হয়েছে।

সন্দীপ ঘোষ নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর, তা গ্রহণ না করে ফের আরও এক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে তাঁকে বসানো নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক পড়ুয়াদের মধ্যে। সেই কলেজের পড়ুয়ারা অধ্যক্ষের ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কাকতাড়ুয়া। সন্দীপকে নিয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজেও প্রতিবাদের জেরে যে ফের চাপে পড়তে চলছে সরকার, তা সোমবার রাত থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। অনেকেই আবার সন্দীপের ‘প্রভাবশালী’ যোগ দেখছেন। এর আগেও একাধিক ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ ওঠে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। তাও এতদিন পর্যন্ত নিজের পদেই বহাল ছিলেন তিনি। ইস্তফা দেওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের তাঁকে অন্য মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্টও।

অন্যদিকে আরজি করের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডলে নতুন অধ্যক্ষ সুহৃতা পালকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দীপ ঘোষের জায়গায় আরজি করের প্রিন্সিপাল করেছেন সুহৃতা পালকে। সুহৃতা বর্তমানে স্বাস্থ্য ভবনের ওএসডি। তদন্তকে প্রভাবিত করার এটা আরেকটা রাস্তা। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলতে এই পদক্ষেপ।’

এর আগে সুহৃতা পালকে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির। অভিযোগ তোলে রাজভবন। এবার সেই সুহৃতা পালের উপরই আস্থা রেখে আরজি করের পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সুহৃতা কি পারবে আরজি করের ক্ষোভ প্রশমিত করতে? এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে উত্তর অনিশ্চিত।

Scroll to Top